বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের সাথে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাক্ষাতকার।
বৃটিশ সংবাদিক ডেভিড ফ্রষ্টের সাথে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাক্ষাতকার

ডেভিড ফ্রস্টঃ আপনি তো অবশ্যই জানতেন, যে রাতে আপনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, আপনি গ্রেপ্তার হতে পারেন।পাকিস্তানীদের সাথে আপনার সাজানো আলোচনার কালে আপনি নিশ্চয়ই ইংগীত পেয়েছিলেন ওরা আক্রমন করবে।পাক বাহিনী আগ্রসর হচ্ছে,টেলিফোনে এই সংবাদ পেয়েছিলেন। সবকিছু বুঝেও গ্রেপতারের জন্যে কেন অপেক্ষা করলেন?
বঙ্গবন্ধৃঃসেদিন বিকেলে আমার বাড়ির চারিদিকে কমান্ডো ছিল। আমি বাহির হলেই ওরা আমাকে হত্যা করে প্রচার চালাতো যে চরমপণ্হীদের হাতে খুন হয়েছে শেখ মজিব।ইয়াহিয়া খান বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতো যে আলোচনা করেছিল।সে সমস্যা সমাধানের জন্য চরমপণ্হীরা তাকে খুন করেছে।হত্যার প্রতিশোধের নামে ওরা আমার নিরীহ জনগনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো।আমার জনগনকে ওরা নির্মম ভাবে মেরে ফেলতো।দেশে ভয়াবহ অবস্হার সৃষ্টি করতো ওরা।ওদের পরিকল্পনাই ছিল এমন, ওরা অসভ্য, ওরা জানোয়ার।আমি জানি আমার জনগন আমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেেআর তাই মৃর্ত্যৃকেই শ্রেয় বলে ধরে নিয়েছিলাম।
ডেভিড ফ্রস্টঃ নিদেনপক্ষে কেলকাটায় তো যেতে পারতেন আপনি?

বঙ্গবন্ধুঃইচ্ছেই যদি থাকতো, আমি তো যেতে পারতাম যেখানে খুশি সেখানে।কিন্তু আমি তো আমার জাতির নেতা।আমার জনগনকে রেখে আমি কেমন করে যাই?আমি তাদের জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারি,মৃত্যুকে বরন করতে পারি,কেন না আমার জনগনকে আমিই প্রতিরোধের মন্ত্র শিখায়েছি।
ডেভিড ফ্রস্টঃযুদ্ধের সময়ে নয় মাসে অবশ্যই ঠিক যে আপিনি আপনার জনগনের কাছে একটা প্রতীক হয়েে উঠেছেন।আপনাকে তারা এখন মনে করে আপনি একজন ইশ্বর?
বঙ্গবন্ধুঃআমি তেমন কিছু মনে করি না।কিন্তু এটা বিশ্বাস করি তারা আমাকে গভীর ভাবে বালোবাসে।আমিও আমার জনগনকে ভালোবাসি বলেই ওদের বাঁচাতে চেয়েছিলাম।কিন্তু হিংস্র জানোয়াররা আমাকে গ্রেপ্তার করে, আমার শহরের এবং গ্মেরার বাড়িঘর ধ্বংশ করে।আমার গ্রামের বাড়িতে আমার ৯০ বছরের বাবা ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা বাস করতেন।তাঁদেরকে বাহির করে দিয়ে চোখের সামরেন ওরা আগুন ধরিয়ে দেয়।সবকিছু পুড়িয়ে দেয় ওরা।আমি ভেবে ছিলাম ওরা আমাকে পেলে আমার নিরীগ জনগনকে আর মারবেনা।তাছাড়া আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি একটি শক্তিশালী পার্টি সংগঠিত করেছিলাম, এই বিপুল জনতা যুদ্ধ করবে।তাদের প্রতি আমার আদেশ ছিল, মুক্ত অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত, আমি থাকি বা না খাকি, প্রতি ইঞ্চি জমির জন্য চালিয়ে যেতে হবে যুদ্ধ।
ডেভিড ফ্রস্টঃএই ৩২ নম্বর বাড়ি চেড়ে আপিনি যখন যাচ্ছিলেন,তখ আবার আপনি ফিরে আসতে পারবেন, এমনটা কি আপনি ভেবেছিলেন?
বঙ্গবন্ধুঃ না। আমি ভেবেছিলাম, এটাই শেষ।আমি আমার জাতির মান রাখতে পেরেছি এটুকই সান্তনা ছিল।এ জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।আত্মসমর্পন তো আমি করিনি।আমার জনগনের নেতা হিসেবে মাথা উঁচু করে মরেছি।

ডেভিড ফ্রস্টঃ আপনি তো বলতেন একসময়, যে মরার জন্য তৈরি হয়ে থাকে তাকে কেউ মারতে পারে না, না?
বঙ্গবন্ধুঃ তা তো এখনো বলি যে মরার জন্য তৈরি হয়ে থাকে তাকে কেউ মারতে পারে না।বাহ্যকভাবে আমি মনে করি, একজন মানুষকে হত্যা করা গেলেও তার হৃদয়ের শ্বত্বাটিকে কোন দিন হত্যা করা যায় না।কেহই পারে না।এছাড়াও আমি একজন মুসলমানও।মুসমানের মৃত্যু একবারই। আমি একজন মানুষও--মানবতাকে ভালোবাসি।এই জাতির পিতা আমি। জনগন আমাকে ভালোবাসে।আমি ও ওদের ভালোবাসি।এর চেয়ে বেশি কি আর পেতে পারি আমি।এ জাতির স্বাধিনতা এনে দেয়ার বিনিময়ে আমাকে যদি মরতেও হতো, তবু কোন দ্বিধা ছিলনা।আমার জন্যে এ জাতি সর্বস্ব দিয়েছে, আমিও সর্বস্ব দিতে চাই।জনগনের বিপুল ভালোবাসার কথা যখনই মনে করি, আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।
ডেভিড ফ্রস্টঃ পাকিস্তানীরা কি আপনার ঘর তেকে সব কছিু নিয়ে গিয়েছিল?
বঙ্গবন্ধুঃ হ্যাঁ,সবকিছুেই, আপনি এখনযা কিছু দেখছেন, এ সবের কিছুই ছিল না।বিছানা পত্ত আলমিরা কাপড়চোপড় সবকিছু ওরা নিয়ে গিয়েছিল।
ডেভিড ফ্রস্টঃ প্রশ্নটা আবার করতে চাচ্ছি, কেন এমনটি করলো?
বঙ্গবন্ধুঃআমার জানা নেই। পাকিস্তনী সৈন্যরা প্রকৃত অর্থে মানুষ না।ওরা বুনো বর্বর বাস্তবিকই।এ বাড়ির ঘঠনা বাদ দিন,আর সব জায়গায় কি সব করেছে, ভাবুন।দুধের বাচ্চা থেকে শুরু করে পাঁচ বছরের বাচ্চাকেও ওচরা হত্যা করেছে নির্মম ভাবে।অসহায় স্ত্রিলোকদের হত্যা করেছে, আমার হতদরিদ্র জনগনের বস্তিতে আগুন লাগিয়ে জ্িবালিয়েছে।ওদের মেশিনগানের সামনে দাঁড় করিয়ে খুযন করেছে।এলাপাথারি গুলি মেলে আমার হাজার হাজার লোককে ওরা হত্যা করেছে।
ডেভিড ফ্রস্টঃ আপনার বিচার নিয়ে কি হয়েছিল?
বঙ্গবন্ধুঃ পাঁচজন সামরিক অফিসার আর কতিপয় সরকারি লোক জন নিয়ে সামরিক আদালত বানিয়েছিল।
ডেভিড ফ্রস্টঃ কি অভিযোগ এনেছিল ওরা আপনার বিরুদ্ধে?
বঙ্গবন্ধুঃ সব মিলিয়ে গোটা বার অভিযোগ ছিলো, যেমন রাষ্টদ্রোহিতা,পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা, মিলিটারির বিরুদ্ধে কথা বলা, বাংলাদেশকে স্বাধিন করার তৎপরতা ইত্যাদি।ছয়টা অভিযোগের প্রত্যেকটির সাজা ছিল ফাঁসি।
ডেভিড ফ্রস্টঃ তারা কি দাপ্তরিক রায় ঘোষণা দিতে সমর্থ হয়েছিল?
বঙ্গবন্ধুঃ আদালতের কাজ ৪ ডিসেম্বরের আগে শেষ হবার পর পরই ইয়াহিয়া তড়িগড়ি করে বিচারকদের পিন্ডিতে তলব করলেন।বিচারক বলতে আমি সে সব কর্নেল বিগ্রেডিয়ারদেরকে বুঝাচ্ছি।ইয়াহিয় রায়ের কথা জানিয়ে দেন।ফাঁসি ঝুলানোর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হলো।
ডেভিড ফ্রস্ট ঃ আপনি তো দেখেছিলেন জেলের পাশেই আপনার জন্যে কবর খোড়া হয়েলি?
বঙ্গবন্ধুঃ আমার জেলখানার পাশেই-আমি স্বয়ং দেখেছি, খুঁড়েছিল।
ডেভিড ফ্রস্টঃ আপিনি কি বুঝতে পেরেছিলেন কি ওটা?
বঙ্গবন্ধুঃ আমি তো দেখেছিই। বলেছিলাম আমার ভয় নেই- এটা তো আমারই কবর আমি তৈরি।
ডেভিড ফ্রস্টঃ কবরটা যে আপনারই ওরা কি বলেছিল সে কথা?
বঙ্গবন্ধুঃওরা বলেনি না ওরা কখনোই বলেনি।
ডেভিড ফ্রস্টঃ কিছু একটা তো বলেছেই।
বঙ্গবন্ধুঃবলেছে, বোমা টোমা যদি পড়ে যেনো আশ্রয় নিতে পারি, সে জন্যই এই ব্যবস্হা।
ডেভিড ফ্রস্টঃ বন্দিত্বের পুরো সময় কি ভাবতেন আপনি? মারাও তো যেতে পারতেন তাই কি?
বঙ্গবন্ধুঃ হ্যাঁ. পুরো সমটাই তাই ভাবতাম, আমি জানতাম যে কোন সময় মৃত্যু গ্রাস করতে পারে আমাকে। ওরা তো মানুষ নয় জানোয়ার।
ডেভিড ফ্রস্টঃআপনি তো দেখলেন কবর খোঁড়া আছে এবং চলে যেতে হবে আপনাকে- ওই মুহুর্ত্যে দেশ না পরিবার পরিজনদের কথা ভাবতেন?
বঙ্গবন্ধুঃ অবশ্যই প্রথমে দেশ,এরপর পরিবার।আমার জনগনের প্রতি ভালোবসা সবার আগে।এই জনগনের জন্যে আমি এত ত্যাগ স্বীকার করি, এটা তো ঠিক আপিনি দেখেছেন, ওরা কতো ভালোবাসে আমাকে।
ডেভিড ফ্রস্টঃ কে বাঁচালো আপনাকে?
বঙ্গবন্ধুঃ আল্লাহ সর্বশক্তিমান বাঁচিয়েছেন।
ডেভিড ফ্রস্টঃ আমি জানতে পেরেছিিইয়াহিয়া যখন আপনাকে মারার চেষ্টা করেছিল, সে সময় জেলার আপনাকে সাহায্য করেছিলো?

বঙ্গবন্ধুঃইয়াহিয়া খান চেয়েছিল কতিপয় কয়েদী আক্রমন করে আমাকে হত্যা করে ফেলুক।এটা জানতে পেরেছিল সম্ভবত আমার জেলার।সে কি ভালোবাসতো আমাকে-মনে হয়, তাই রাত তিনটায় আমাকে সরিয়ে নিয়ে যায় মরুঅঞ্চলের এক কলোনিতে, এবংচার পাঁচ দুদিন লুকিয়ে রাখে। কয়েকজন নিম্নপদস্হ অফিসার এটা জানতো।
ডেভিড ফ্রস্টঃ পরবর্তিতে ইয়াহিয়া খান যখন ভুট্টার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, তখনো ইয়াহিয়া ভুট্টোকে অনুরোধ করেছিল যেন আপনার ফাঁসি কার্যকর করা হয়?
বঙ্গবন্ধুঃ হ্যাঁ. বিষয়টা ইন্টারেস্টিং।ভুট্টো আমাকে নিজেই বলেছে যে,ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ইয়াহিয়া ভুট্টোকে বলেছিল মিঃ ভুট্টো আমি শয়তানটাকে হত্যা করতে পারলাম না।
ডেভিড ফ্রস্টঃ ঠিক এ রকম?
বঙ্গবন্ধুঃ হ্যাঁ, সে বলেছিল যেন নির্দিষ্ট তারিখেই পুর্ব ঘোষিত রায় অনুসারে ফাঁসিটা কার্যকর করা হয়। কিন্তু ভুট্টো সে কথা রাখলো না।
ডেভিড ফ্রস্টঃ ইয়াহিয়া ভুট্টোকে যা বললো, আপনাকে কি তাই বলেছিল ভুট্টো?
বঙ্গবন্ধুঃহ্যাঁ।
বঙ্গবন্ধুঃ ভুট্টো বলেছিল যে এটা তার পক্ষে সম্ভোব না।কারণ মিত্র বাহিনীর কাছে তাদের একলক্ষ বিশ হাজার সৈন্য বন্দি।কয়েক লাখ অবাঙ্গালী অবস্হান করছিল বাংলাদেশে।এমন অবস্হায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর করলে একজন পাকিস্তানীও দেশে ফিরে যেতে পারবে না।এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তানেও বিদ্রোহ দেখা দেবে এবং তার পক্ষেও ক্ষমতায় থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।আমি মনে করি ভুট্টো যথার্থই চিন্তা করেছিলেন।ঘঠনা যে তাহলে এমনই ঘঠতো এতে কোন সন্দেহ ছিল না।
ডেভিড ফ্রস্টঃ এ মুহুর্তে যদি আপনি এবং ইয়াহিয়া মুখো মুখী হন, কি কথা বলবেন তাকে?
বঙ্গবন্ধঃ যে লো আমার তিরিশ লক্ষ লোককে হত্যা করেছে এরকম যঘন্য অপরাধীর মুখও আমি দেখতে চাই না।
ডেভিড ফ্রস্টঃ মৃতের সংখ্যা যে তিরিশ লাখই এটা আপনি জানলেন কেমন করে?
বঙ্গবন্ধুঃ আমার সংগঠন সারা দেশে শেকড় পর্যায়ে বিস্তৃত।আমার দেশে ফেরার আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ শুরু করে দিয়েছে তারা।এখনও চুড়ান্ত ভাবে হিসেব করিনি। শহীদের সংখ্যা এর অনেক বেশি চাড়া কম হবে না।
ডেভিড ফ্রস্টঃ হ্যাঁ তারা অসংখ্য নর-নারী হত্যা করেছে।এমন কি বাড়ি থেকে টেনে নিয়েও?
বঙ্গবন্ধঃ হ্যাঁ, প্রত্যন্ত গ্রামের যারা দেশ দুনিয়ার কোন খবরও জানে না।, বর্বর পাকিস্তানীরা সেখানে পর্যন্ত গিয়েছে, আমার শান্তিপ্রিয় জনগনকে হত্যা করেছে পাখি শিকারের মতো।
ডেভিড ফ্রস্টঃ কেন? কেন? কেন?
বঙ্গবন্ধুঃ জানি না। বুঝিও না। সভ্যতার ইতিহাসে এমন বর্বরতা ঘঠেনি। এমন দৃষ্টান্ত নেই।
ডেভিড ফ্রস্টঃ এটা তো মুসলিমের হাতে মুসলিম হত্যা, নয় কি?
বঙ্গবন্ধুঃ ওরা মুসলমানের বুল কপচায়। মুসলমানই যদি হতো তাহলে মুসলমান বালিকাকে হত্যা করে কিভাবেেআমরা অনেক মেয়েকে উর্দ্ধার করে কেম্পে রেখেছি।ওদের পিতা স্বামী কেউ বেঁচে নেই।মায়ের সামনে মেয়ের, ছেলের সামনে মায়ের শ্লিলতাহানী করেছে পাকিস্তানীরা।এবার বলুন কেমন করে কিসের দাবিতে ওরা নিজেদের মুসলমান দাবি করে? এসব দেখে আমি কিছুতেই অশ্রু সংবরন করতে পারি না।ওরা পশুর চেয়েও অধম।আমার বন্ধু,পার্টির প্রথম সারির নেতা, জনাব মশিউর রহমান( বঙ্গবন্ধু কেঁদে ফেললেন)একজন প্রাক্তন মন্ত্রি তাঁকে ওরা ২৪দিন নুশংস নির্যাতন করে হত্যা করেছে।এর পর বঙ্গবন্ধু যে বর্ননা দিলেন তা ছিল হৃদয় বিদারক।এভাবে আমার দলের অনেক নেতা ছাত্র কর্মিকে কর্মচারি বুদ্ধিজিবীবে সাত থেকে দশদিন নির্যাতন করে হত্যা করেছে।ইতিহাসে এমন অমানবিকতা আমি আর দেখিনি।বনের পশুরাও এভাবে মানুষ হত্যা করে না।
ডেভিড ফ্রস্টঃ কি চেয়েছিল ওরা?
বঙ্গবন্ধুঃ ওরা এদেশকে একটা কলোনী বানাতে চেয়েছিল।ওরা আমার পুলিশ বাহিনী সদশ্যদের শুধু পুলিশ কেন, বাঙ্গালী সৈন্য অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার ছাত্র যুবক হত্যা করেছে।
ডেভিড ফ্রস্টঃ আপনার কি মনে হয় ইয়াহিয়া নিজে একজন দুর্বল প্রকৃতির মানুষ, সে অন্যের দ্বারা পরিচালিত হয়ে এমন বর্বরতা চালিয়েছে?
বঙ্গবন্ধুঃ সে নিজেই আস্ত একটা বর্বর।ওর বন্ধু-বান্ধব বা সহকর্মি যারা সবসময় ওর চতুর্পাশে ঘুর ঘুর করে তারাও জানে ইয়াহিয়া নিজেই একটা বর্বর।এই দায়িত্ব কিছুতেই কেউ অন্যের ঘাঁড়ে চাপিয়ে দিতে পারে না, কারণ ইয়াহিয়া নিজেই একজন ভন্ড ও ভয়ঙ্কর।আমি ব্যক্তিগত ভাবে সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে তার সাথে দেখা করেছি এবং দেখেছি সে কেমন..
ডেভিড ফ্রস্টঃ জাতীয় সংগীত কে রচনা করেছেন?
বঙ্গবন্ধুঃএটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরচিত পুরানো একটা গান।
ডেভিড ফ্রস্টঃ ইংরেজি অনুবাদ কেমন হবে?
বঙ্গবন্ধুঃ এ রকম হবে ইংরেজিতে...লাভ মাই গোল্ডেন বেঙ্গাল ওরকমও হতে পারে...কিভাবে যে শুরু করি, ধরুন গোল্ডেন বেঙ্গাল আই লাভ ইউ,
বঙ্গবন্ধুঃ ুমঃ ুহথ, মিঃ উইলসনের সাথে আমার সোহার্তপূর্ন আলাপ হয়েছে, আমি তাতে খুশি হয়েছি।
ডেভিড ফ্রস্টঃ আপনি কি বৃটেনের তামাক খান?
বঙ্গবন্ধুঃ হ্যাঁ অনেক দিন ধরে।
ডেভিড ফ্রস্টঃ কি তামাক?
বঙ্গবন্ধুঃ এরিন ম্যুর“স।
ডেভিড ফ্রস্টঃ আপনার পছন্দ এটা?
বঙ্গবন্ধুঃ হ্যাঁ, চৌদ্দ বছর ধরে এই তামাক খাচ্ছি আমি।জেলে থাকার সময়ও বলতাম আমাকে যেন এরিন ম্যুর“স সরবরাহ করা হয়। ওরা টো করতো।
ডেভিড ফ্রস্টঃনির্জন কারাগারেও?
বঙ্গবন্ধুঃহ্যাঁ এর জন্য ওদের প্রতি আমি প্রীত, হেসে বললেন।
ডেভিড ফ্রস্টঃ এখন এটা একটি ক্ষুদার্থ কিন্তু সুখি নগরী। আপনি কি জানেন, এখন আপনার কত টাকার প্রয়োজন?
বঙ্গবন্ধুঃ এই মুহুর্তে আমি কিছুই বলতে পারব না। ওরা যাবার আগে সমস্ত নোট পুড়ে ফেলে।ব্যাংকের যাবতিয় টাকা ওরা আত্মস্যাৎ করেছিল আগেই, সারেন্ডারের আগে সব পুড়িয়ে ফেলে।
ডেভিড ফ্রস্টঃ ইতিহাসের কোন নেতাকে আপনি কভীর ভাবে শ্রদ্ধা করেন?
বঙ্গবন্ধুঃ অনেক নেতাকেই আমি শ্রদ্ধা করি।(েবর্তমানের কথা বলছিনা)
ডেভিড ফ্রস্টঃ অতীত ইতিহাসের কোন নেতা আপনাকে অনুপ্রণীত করে?
বঙ্গবন্ধঃ আব্রাহাম লিঙ্কন. মাও সেতুং,লেনিন, চার্চিল- এদের আমি শ্রদ্ধা করি। আমেরিকার প্রক্তন প্রেসিডেন্ট কেনেডিকেও আমি পছন্দ করি।
ডেবিড ফ্রস্টঃ আপনি অতীতের ভিতর ডুবদিয়ে বলুন তো. অতীতের কো মুহুর্তটি আপনার জন্যে সবচেয়ে সুখকর?
বঙ্গবন্ধুঃ যেদিন আমি শুনতে পারলাম যে বাংলার জনগন মুক্ত হয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে-- আমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, এর চেয়ে অধিক সুখকর মুহুর্ত আমার জীবনে আর নেই।
ডেভিড ফ্রস্টঃ এমন দিনের স্বপ্ন কতদিন ধরে দেখে আসছিলেন?
বঙ্গবন্ধুঃ অনেক অনেক দিন ধরে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন