রক্তাক্ত আগষ্ট--ঁঁঁ
আবার এল সেই রক্তাক্ত আগষ্ট!
হে মহান পিতা! তোমার নির্মম নির্বাণের দিবস!
আর আমাদের শোকার্ত সেই মাতমের দিন।
আমাদের সেই কান্নার তুফান উঠার দিন!
অঝর ধারায় ঝরছে অশ্রুধারা--
লাল লাল মোটা মোটা অশ্রুধারা--!
হে মহান পিতা! জাতির জনক!
আমরা সেদিন একটুও কাঁদতে পারিনী,
আমাদের বিক্ষত বুকের আশমান ফাটা কান্না,
গলার মধ্যখানে এসে আঁটকে গিয়েছিল!
কুখ্যাত খুনিরা রক্তাক্ত আঙ্গুলে চেপে ধরেছিল
আমাদের নির্দোষ কন্ঠনালী--!
বহুদিন ধরে--হে মহান পিতা!
বহু বচর ধরে---আমরা একটু
চিৎকার করে কাঁদতে পারিনী,
আমাদের সেই বিরহ ব্যথার কান্না,
বুকের ঝুলিতে জমতে জমতে আজ
পরিণত হয়েছে হীরাচুন্নী পান্নাতে।
আজ কঠিন থেকেও হয়েছি কঠিনতর-
আমরা তোমার লক্ষকুঠি মজিব সেনা,
প্রতিশোধের রক্ত আজ উৎরায় উৎলায়,
আমাদের মাথায় আর মগজে।
ক্রোদে বার বার আমাদের হাতের মুষ্টি কষে আসে,
হন্যে হয়ে খুজছি তোমার খুনিদের--!
কোথায় আজ! কোথায় সেই ফেরেবি
গিধর শকুন হায়েনার দল?
হে মহান পিতা!
হে জাতির জনক!
আজ আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত পাকিস্তানে
বহিছে স্বাধীনতার আনন্দের মহাউৎসব।
তাদের মুক্ত আকাশে উড়ছে রঙিন ফাণুস,
আর আমাদের ঘরে ঘরে বহিছে কেন শোকের মাতম!
আমাদের ঘরে ঘরে কেন আজ উঠছে কান্নার রোল!
কেন? কেন হে পিতা! আমরা এমন হতভাগা
দুর্ভাগা আত্মঘাতি জাতি হলাম?
হে জাতির পিতা!
বার বার আজ আমাদের হৃদয় দর্পনে ভেসে
উঠে রাসেলের নিঃস্পাপ কচি মুখ!
বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসার মায়াবি অবয়ব।
দিগন্তবধি বিরান বাংলার মুখ!
এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম।
তুমি কি চেয়েছ এমন বাংলাদেশ?
হে মহান পিতা--!
তুমি তো সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখায়েছ।
তোমার সেই অনিয়ন্ত্রিত স্বপ্নের ফলাদি বীজ
বপেছ হরীৎ বাংলার উর্বার মাটিতে---
লাখো কুঠি তরুনের বুকের জমিনে--
দেখ! দেখ! হে পিতা!
তোমার সেই আকঙ্খার মুকুল আজ ঝিলিক মেরেছে-
সবাই আজ ফোটার প্রতিক্ষায়!
আমারাই তোমার সেই লালিত আকাঙ্খার মুকুল!
লক্ষকুঠি তরুন তরুনি,মজিব তোমারই প্রিয় সেনা সেনানী।
হে মহান পিতা!
তুমি তো আজ জীবিতের চেয়েও জীবিত,
তুমি তো চির দুর্জয় অমর অক্ষয়!
তুমি তো দেখছ নিশ্চয়!
তোমার স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ কেমন সম্ভাবনাময়---!
*****
হে মহান পিতা! হে জাতির জনক!
তুমি তো, হাজার বছর ধরে ঘৃনিত লাঞ্চিত,
অবাঞ্চিত, অবহেলিত নিপিড়িত নির্যাতিত
চাউল মাছলি খানেওলা চুতিয়া বাঙ্গালীকে
মানুষ হওয়ার অগ্নিমন্ত্র শিখায়েছ।
তুমিই তো নিজ হাতে তাদের বীর উত্তম বীর শ্রেষ্ট
খেতাব দিয়েছ।তুমিই তো তাদেরকে রক্তের বিনিময়ে
গর্ব করার অধিকার দিয়েছ।
তোমার সেই গর্বকে
নীমিশেই খর্ব করে দিলো
ঐ কুলাঙ্গারের দল।
দেখ পিতা! দেখ তোমার তিরিশ লাখ বীর
শহীদের প্রবিত্র এই মাটিতে আজ জন্ম নিয়েছে লক্ষ
লক্ষ ভীরু কাপুরুষ! দেখ দেখ পিতা
তোমার আত্মজা তুল্য দুলক্ষ বীরঙ্গনার
এই দেশে আজ জন্ম নিয়েছে লক্ষ লক্ষ
বেশ্যা আর গস্তানী মাস্তানী--!
*****
হে মহান পিতা!
রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে এক
প্রহসনের বিচারে তোমাকে মৃর্ত্যুদন্ডের সাজা
শুনায়েছিল ঔরা, কিন্তু তোমাকে একা বন্দিবস্হায়
পেয়েও ফাঁসি কার্যকর করার শাহস পেলনা--
পাকিস্তানি জান্তা বাহিনীর সামরিক গুন্ডারা।
অতচ কতই না সহজে গুলি চালালো
স্বদেশেরই কিছু কুলাঙ্গার কাপুরুষেরা
তোমার দয়াবান বুকে---
শাহসে নয় ভয়ার্ত হাতেই ওরা ক্যালোসান কুভের
ট্রিগার টিপে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল তোমার
আকাশের মত বিশাল বুকটা।রক্তাক্ত শিঁড়িতে
পড়ে রলো তোমার নিথর দেহটা।
রক্তের ঋণ রক্ত দিয়ে শুধিতে ছিল
তোমার কামনা আর বাসনা,
তোমার সেই বিশুদ্ধ রক্ত
ধানমন্ডির সেই বঙ্গবাড়ির শিঁড়ি বেয়ে
গিয়ে পড়ল ধানমন্ডির লেকে, তারপর গড়িয়ে
গড়িয়ে গিয়ে মিলিত হলো পদ্মা মেঘনা যমুনায়।
হে মহান পিতা!
তোমাকে হত্যা করেও ঘাতকেরা খ্যান্ত হয়নি--
তারা একে একে মারল তোমার সহধর্মিনী,
আমাদের মা ফজিলাতুন
নেসাকে। তারা হত্যা করলো, প্রিয় পুত্রদেরকে
শিশু রাসেলকেও তারা নির্মম ভাবে হত্যা করলো।
তোর বাড়ির কাজের লোক, এমন কি তোমার
পোষা পাখিদেরকেও তারা গুলি করে হত্যা করলো।
কি ভয়াবহ কি নির্মম!
এ যেন আরেকটি কারবালার ঘটনা ঘটলো,
সদ্য স্বাধীন এ বাংলার মাটিতে!
আগস্ট মাস যেন আরেকটি মহরম মাসে পরিণত হলো।
অবশ্যই মজিব সেনাদের কাছে আগষ্ট মানেই মহরম।
আগষ্ট মানেই আরেকটি কারবালা--!
*****
হে মহান জাতির পিতা--!
তোমাকে হত্যা করার অল্প কিছুদিনের
মাথায় এসে জেলখানার বন্ধ প্রকোষ্টে
ঔরা নির্মমভাবে হত্যা করলো,
জাতীয় চারা নেতা তোমার বিশ্বস্হ সহকর্মি ও বন্ধুদেরকে।
অবাক বিশ্ময়ে নিরবে তাকিয়ে রয় গোটা বিশ্ব।
তারপর ঔরা হত্যা করলো তোমার সেইফ সেক্যুলারকে--
তারপর ঔরা হত্যা করলো তোমার লালিত সোস্যালিজমকে--
জনগনতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে
ঔরা আয়ূবী কায়েদায় কায়েম করলো বেসিক
ডেমোক্রেসিজম।
ঔরা নিলর্জের মত ধানের ছড়ি উঁচ করে
নাড়ায়ে নাড়ায়ে খুদার্থ মানুষকে দেখালো
ভাতের লোভ---
প্রিন্সেস জরিনা আর লাকি খানের নগ্ন নৃত্যের
সস্তা দামের ব্যঙ্গ বিনোদন বিতরন করলো
দিশেহারা জনগনের মাঝে।
হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন ঔরা স্তাপন করলো নতুন দৃস্টান্ত।
তারা তাকেই বলে নাকি উদার গনতন্ত্র।
*****
হে মহান পিতা! হে জাতির জনক!
যতদিন তুমি স্বশরিরে বেঁচেছিলে--
ততদিন এই দেশে জন্ম নিয়েছিল,
অগনন অনুখ নেতা---
তোমার মহা নির্বাণের পর তো এদেশে
নেতা জন্ম নেওয়াই বন্ধ হয়ে গেল পিতা--!
তোমার তর্জনীর গর্জনে-বোলভালনে--
তীক্ষ দৃষ্ট্রির ছাওনীনে ঘোড়া মাছের মত
জন্ম নিয়েছিল সেদিন অসংখ্য নেতা।
তারা আজ কোথায়?
তারা আজ কালের স্রোতে ভেসে
যাওয়া আবর্জনার স্তুপ।
তাদের স্হান আজ দখল করেছে
সামরিক বাহিনীর না-মরদ অফিসার-রা।
দুর্নীতিবাজদের নাদান পোলারা--
মেথর পট্টির উচ্ছিষ্টের চেয়েও আজ নকিৃষ্ট তারা।
তোমার এটম উক্তির উত্তালে ভেসে আসা
আয়ারাম গেয়ারাম আর জয়ারামরা---
সবাই আজ রাজনীতির ময়দানে উদ্ভাস্তু সর্বহারা।
ঔরা আর এক কদমও আগাতে পারেনি পিতা--
ঔরা আর এক ইঞ্চিও উপরে উঠতে পারেনি--
তোমার প্রবিত্র পাঁয়ের তলার পাঁ-চাঁটা জীবরা
আজ কোথায়---?
কোথায়-আজ-?রব সিরাজ ইনু সিরাজুলরা--?
কোথায়-আজ-?তাহের জিয়া খুনি মোস্তাক রশিদ ফারুকেরা--?
কোথায়-আজ-? গালপুলা কামাল আর ডিগবাজি খাওয়া
মদুদ সাহেবেরা--?
নেড়ি কুত্তার আচরণে দীক্ষিত, সবাই
আজ শুয়োরের মত মানবতা কিংবা--
গনতন্ত্রের কথা বলে বলে বারবার-
লাফ দিয়ে আবারো সেই পুরানো কাদায়
(লোদে পেঁকে) গড়াগড়ি খায়।
আবারো তারা গিরগিটের মত রঙ পাল্টিয়ে--
সুশিল সুজন প্রগতিশীল সেজে শিয়াল কুকুরে মিলে
শ্রমিকের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায়।
বেশ্যার খদ্দর দালাল ধল্লারা আজ শুশিল সাজে।
নধর বদর জারতেরা আজ নিজেদেরকে অভিজাত ভাবে।
হে মহান পিতা--তুমিই বলেছিলে--
শুধু ইচ্ছে করলেই যে কেউ দেশ ও জনতার কল্যাণ
করতে পারেনা।কুসংস্কারের ডিপো গুলির মুখে
কল্যাণের কথা কি মানায়--? মানবতার
কথা কি মানায়--?গনতন্ত্রের কথা কি মানায়?
জান্নাতি হুরের লোভ দেখানোই কি ধর্মের কাজ?
মাতাল ধর্ম ব্যপারিরা আজ ধর্মের নামে করছে ধান্ধাÑ
মানতে পারিনা পিতা! সইতে পারিনা পিতা!
কুসংস্কারের চাপে আজ এদেশে
দেবে গেছে প্রগতির চাকা।
সত্য ঘটনা কেউ বলেনা--সত্য ঘটনা কেউ আজ
আর লিখেনা-- সবাই গরুর মত মেকি ঘটনার যাবর কাটে--
*****
হে মহান জাতির পিতা!
তুমি যাবার পরে এ-দেশে শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়ছে-
কিন্তু সুশিক্ষিতের সংখ্যা মোটেই বাড়ছেছেনা--
স্কুল কলেজ ভার্সিটি কিংবা মাদরাসা মসজিদ বাড়ছে--
কিন্ত জ্ঞানের চর্চা নাই কোথাও--
শিক্ষক অধ্যাপক বাড়ছে, মোল্লা মাওলানা বাড়ছে--
সাংবাদিক সাহিত্যিক কবি বাড়ছে---
ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ ঠগবাজ জঙ্গিবাজ বাড়ছে--
কালো বাজারি খুন ধর্ষন রাহাজানি বাড়ছে--
কিন্তু বাড়ছেনা শুধু মানুষের মৌলিক মুল্যবোধ-
ঈমান আখলাক,সৎ সততা প্রেমপ্রিতি--
বাড়ছেনা বিষুদ্ধ মানবতা, ন্যায়পরায়নতা,
আর বাড়ছেনা মানুষে মানুষে সমপ্রিতী।
*****
হে জাতির জনক! হে মহান পিতা!
আমাদের হৃদয় সিংহাসনে আজ তুমি হয়েছ আসিন।
সেরস্তাদারের সন্তান থেকে হয়েছ তুমি বাঙ্গালীর চির সম্রাট--
তুমি বাংলার রাখাল রাজা-
মাও লেনিনের মধ্যখানে দেখি তোমাকে--
শুধু এই উপমহাদেশে নয় সমগ্র বিশ্বে তোমার মত
আর কোন নেতার জন্ম হয় নাই নাই---
তুমি যদি ইব্রাহিম কিংবা মুসার জমানায়
জন্ম নিতে আমার বিশ্বাস তাহলে
তুমি হতে শ্রেষ্ট পয়গাম্বর---!
যেদিন পদ্মা মেঘনা যমুনার জল শুকিয়ে যাবে--
সেদিনও তোমার কির্তী আকির্ন হয়ে রবে-
কারণ তুমিই তো বাংলাদেশ--!
আমার বিশ্বাস কেয়ামতের আগ পর্যন্ত
এই বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে--
বাঙ্গালীর বুকের বিবরে তুমি থাকবে---
তোমারি রণধ্বনি রনিবে নিরন্তর
বাংলার আকাশে বাতাসে--
জয় বাংলা! জয় বঙ্গ বন্ধু--!
লাখো কুঠি কন্ঠে ধ্বনিত হবে সাহসে---!




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন