মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৮

অশ্রুঝরা আগষ্ট--




অশ্রুঝরা আগষ্ট,

 

১৯৭১ইং সালে পশ্চিম পাকিস্তানের রাওয়াল
পিন্ডিতে, রহিমুদ্দিন খান নামক এক সামরিক
আদালতে প্রহসনের বিচারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ
মজিবর রহমানকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল
তদানিন্তন পাকিস্তানের জান্থাবাহিনী।

বঙ্গবন্ধু দৃঢ় কন্ঠে জান্থাবাহিনীর উদ্দেশ্যে শুধু
অনুরোধ করে বলেছিল--আমার প্রাপ্য যদি
ফাঁসি-ই হয়ে থাকে, তোমরা তা-ই করো,
আমাকে তোমরা ফাঁসি দিয়ে হত্যা করো,
আমার কোন আপত্বি বা কফিয়ত নাই।

শুধু তোমাদের কাছে আমার একটি অনুরোধ,
আমার মৃর্ত্যুর পর তোমরা আমার লাশটি
আমার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিও।
আমার বাঙ্গালীর কাছে আমার লাশটি বুঝিয়ে দিও।
জেনে রেখো আমি বাঙ্গালী, আমি মুসলমান!
মুসলমানরা শুধু একবারই মরে, দু-বার মরে-না-।
আমেরিকার তুষ্ট-পুষ্ট এত বড় পাকিস্তানি জান্থা বাহিনী
বাংলার প্রিয় নেত জাতির জনককে হত্যা
করতে আর সাহস করলো-না

*****
১৯৭১ইং সালের ১৬ই ডিসেম্বর, এক ভয়াবহ রক্তাক্ষয়ি
যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ চুড়ান্ত বিজয়
চিনিয়ে নিল।এইদিনে ঢাকা রেডক্রস ময়দানে পাকিস্তানের
জঙ্গলী বর্বর বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্যরা নিলর্জের মত
বাঙ্গালী ও ভারতীয় যৌত বাহিনীর কাছে সারেন্ডার বা আত্বসমর্পন
করতে বাদ্য হলো। ঐদিনে পৃথিবীর মানচিত্রে গর্বের সহিত অষ্টম বৃহৎ
 রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো অলিক স্বপ্নের বাংলাদেশ।

*****
বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক তখনও
পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে বন্দি।
১৯৭২ইং সালের ১০ই জানুয়ারী  বাংলার প্রিয় নেতা
পাকিস্তানি হায়েনাদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে
লন্ডন ও দিল্লী হয়ে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে
প্রত্যাবর্তন করেন।সেদিন লাখো কুঠি জনতার
অশ্রুশিক্ত অভ্যর্থনায় আবেগ আফ্লুত কন্ঠে বঙ্গবন্ধু
বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,
দেখ রবি ঠাকুর, তুমি বলেছিলে রেখেছ বাঙ্গালী
করে মানুষ করনি। দেখ! দেখ! আজ আমার বাঙ্গালী
মানুষ হয়েছে।

*****
দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু ধংশস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন
দ্বিতীয় বিপ্লবের।তিনি বিন্দুমাত্র হতাশ এবং নিরাশ  না হয়ে
 দিশেহারা জাতিকে স্বপ্ন দেখালেন, সোনার বাংলা গড়ার।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তিনি একটা সাবলম্বি রাষ্ট্রের
মূলভিত্তি বা পত্তন করতে সক্ষমও হলেন।সুনিপন স্তপতির মত
বিশ্বের অনেক দেশ থেকে সিকৃতিও আদায় করে নিলেন।
একটা রাষ্ট্র ঘটনে যতগুলি সংস্হা ও সংঘটনের প্রয়োজন
ছিল, বঙ্গবন্ধু দক্ষ কারিগরের মত সবি গড়ে তুললেন।
কথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে নৈরাজ্যবাদীদের উৎপাত
অত্যাচার অরাজকতার মধ্যেও বঙ্গবন্ধু একটা রাষ্ট্রের অবকাঠামো
নির্মানে সফল হলেন।যখন তরতর করে বাংলাদেশের উপরে
উঠতে লাগলো, উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেতে লাগলো,ঠিক
তখনই একাত্তরের পরাজিত শক্তি দেশি বিদেশি
শিয়াল শকুন কুৎসিত হায়েনার দল ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট
স্বপরিবারে জাতির জনককে নির্মম ও নিশংস ভাবে হত্যা করে
বসলো শুরু হলো অন্য অধ্যায়।

*****
রাত্রি প্রায় শেষ। ভোর হয় হয়।এমন--
পশু পক্ষি জীব জন্তু মানুষ সবি রবির একটু আলোর প্রতিক্ষায়।
সবাই প্রতিদিনের মত প্রকৃতির স্বভাবগত নিয়মে জেগে উঠবে।
চারিদিকে তখন মোয়াজ্জিনের মধুর কন্ঠে আযানের ধ্বনি
রণিত হচ্ছে। ঠিক তখনই মানুষরুপি হায়েনার দল মির জাফরের 
উত্তরসুরি ট্যাঙ্ক কামান গোলা বারুদ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসস্হান
বাংলার ইতিহাসের সুতিকাগার ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে
আঘাত হানে।বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সবাই তখন গুমে আচ্ছন্ন।
গুলির শব্দে বঙ্গবন্ধু জেগে উঠে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে হুঙ্কার
দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কিরে তোরা কি চাস?
খুনিদের কেউ এক জন বলে উঠলো আমরা আপনাকে
নিয়ে যেতে এসেছি।বঙ্গবন্ধু আবার হুঙ্কার দিয়ে বললেন,
তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি--?বেয়াদপি করিসনা--
ঐ পাকিস্তানিরা আমাকে মারতে সাহস করলো না। আর
তোরাও আমাকে মারতি পারবিনা--
এ কথা বলার সাথে সাথে খুনিরা করলো ব্রাস ফায়ার।
ঝাঁঝরা করে দিল বঙ্গবন্ধুর আকাশের মত বিশাল বুকটা।

*****
সিঁড়ির উপর বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত নিথর দেহটা পড়ে থাকতে দেখে
বঙ্গবন্ধুর চিরদিনের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা ফজিলতুন্নেসা ব্যকূল
কন্ঠে বলে উঠলেন,হায় হায় তোরা এটা কি করলি।
তাকে যখন মেরে ফেললি, আমাকেও মেরে ফেল।আমি তাকে চেড়ে
কোথাও যাবনা।
খুনিরা তা-ই করলো--ব্রাসফায়ার করে হত্যা করলো মা
ফজিলাতুন্নেসাকে---!

*****
বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্র বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল,
শেখ জামাল ও দু ভাইয়ের অন্তঃসত্বা দুই বউকে হত্যা
করে দোতালার এক কামড়ায় রক্তাক্ত লাশের উপর লাশ
লাশ রেখে খুনিরা খুজে বের করলো, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই
শেখ নাসেরকে।
বিনীত কন্ঠে পঙ্গু নাসের খুনিদেরকে বললো।দেখ ভাই আমি
রাজনীতি টাজনীতি করিনা।তোমরা আমাকে দয়া করে মেরনা।
খুনিরা সাথে সাথে ব্রাসফায়ার করে হত্যা করলো শেখ নাসেরকে।

*****
তার পর খুনিরা একি কায়দায় বাড়ির কাজের লোকদেরকে
নিশংস ভাবে হত্যা করলো।বঙ্গবন্ধুর শিশু পুত্র শেখ রাসেল
রয়ে গেল।আতঙ্কিত শিশু রাসেল কেয়ার টেকার মুহিতের
কোলে উঠে কান্না জড়িত কন্ঠে বললো, ভাই ঔরা তো
আমাকে মারবে না?অবয় দিয়ে মুহিত ভাই বললো, না ঔরা
তোমাকে মারবে--না।
সাথে সাথে মুহিতের কোল থেকে রাসেলকে কেড়ে নিয়ে
খুনিরা ব্রাস ফায়ার করে হত্যা করলো।
কি কঠিন নির্মম ভিবৎস এই ঘটনা।
মানবতা, ন্যায়পরায়নতা,সৎ সততা সত্য এবং মনুষত্ব,
একি সাথে সেদিন হত্যা হয়ে গেল।

*****
কুখ্যাত খুনিরা একে একে সবাইকে হত্যা করে উল্যাস
করতে করতে যখন শূন্যে আকাশের দিকে গুলি চুড়তে লাগলো।
বঙ্গবন্ধুর পোষা পাখি গুলি তখন খাঁচার ভিতর চটপট করতেছিল।
খুনিরা যাবার বেলায় বন্দি খাঁচার পাখি গুলিদেরকেও ব্রাস
ফায়ার করে হত্যা করে গেল। 
বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত নিথর দেহ তখনো সিঁড়িতে পড়ে রলো।
গড়িয়ে গড়িয়ে রক্তধারা গিয়ে বাংলার মাঠির সাথে মিশলো।
কিচিরমিচির শব্দ করে সেদিন সকালে শূন্যে উড়ে উঠলো
বাংলার দোয়েল কোয়েল কাকাতুয়া শালিক খঞ্জনা--
ঘাপটি মেরে থাকা পরাজিত রাজাকাররা লম্ফ দিয়ে আকাশে
উড়ালো আবার চাঁদ তারা পতাকা।প্রগতির চাকা তারা
গুরিয়ে দিল উল্টোদিকে।
নামে বাংলাদেশ,আসলে দেশটা আবার পাকিস্তানই হয়ে গেল।
কেউ কেউ আবার বললো বাংলাস্তান।




































                     




                                                                                                                                                                                                 





 























 
                                                                                                     

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন